خبرگزاری شبستان

جمعه ۳۰ فروردین ۱۳۹۸

الجمعة ١٤ شعبان ١٤٤٠

Friday, April 19, 2019

বিজ্ঞাপন হার

ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা শহরের ইরানি কনস্যুলেটে দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদ জানাতে আজ (শনিবার) ভোরে তেহরানে নিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। এ সময় ইরানি কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে ইরাকি নিরাপত্তা কর্মীদের অবহেলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

নির্বাচিত সংবাদ

মতামতজরিপ  :   Tuesday, February 3, 2015 নির্বাচিত সংবাদ : 19961

নতুন যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বিশ্ব: বিশ্লেষক
আন্তর্জাতিক বিভাগ: তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলে'র হাতে আটক জাপানের দু নাগরিককে গলা কেটে হত্যার পর জাপান সরকার আমেরিকার নেতৃত্বে আইএসআইএল বিরোধী জোটে যোগ দিবার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে পূর্ব এশিয়াতেও তাকফিরি যোদ্ধাদের তৎপরতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শাবিস্তান বার্তা সংস্থা বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ উম্মিদ গুলজারির সাথে আলাপ করেছে। নিচে আমরা তা পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি

নতুন যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বিশ্ব: বিশ্লেষক

 

আন্তর্জাতিক বিভাগ:  তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলে'র হাতে আটক জাপানের দু নাগরিককে গলা কেটে হত্যার পর জাপান সরকার আমেরিকার নেতৃত্বে আইএসআইএল বিরোধী জোটে যোগ দিবার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে পূর্ব এশিয়াতেও তাকফিরি যোদ্ধাদের তৎপরতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শাবিস্তান বার্তা সংস্থা বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ উম্মিদ গুলজারির সাথে আলাপ করেছে। নিচে আমরা তা পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি-

শাবিস্তান বার্তা সংস্থার রিপোর্ট: সম্প্রতি উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠি আইএসআইএল জাপানের দু'নাগরিককে অপহরণের কিছু দিন পর প্রকাশ্যে তাদের গলা কেটে হত্যা করেছে। জাপানের এ দু'নাগরিকের নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যার দৃশ্য বিশ্বের প্রায় সব প্রচার মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। এ ঘটনার পর জাপান আইএসআইএল বিরোধী জোটে যোগ দিবার ঘোষণা দিয়েছে। যে জোটের নেতৃত্বে রয়েছে আমেরিকা। এ প্রেক্ষিতে উগ্র তাকফিরিদের যুদ্ধের পরিধি মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে পূর্ব এশিয়ার দিকে প্রসারিত হওয়ার তীব্র সম্ভবণা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় কি বিশ্বযুদ্ধের মত কোন ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ উম্মিদ গুলজারি বলেন:

আমেরিকা স্নায়ুর যুদ্ধের পর পূর্ব এশিয়া বিশেষত: জাপানের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেছে। এ দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উপর অধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা বর্তমানে চীনকে নিজের শক্ত প্রতিদ্বন্দি মনে করছে আর এ শক্ত প্রতিদ্বন্দিকে দমন করতে প্রতিবেশি জাপানকে ব্যবহার করছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপান সব সময় আমেরিকার নেতৃত্বে অগ্রসর হয়েছে।

এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে নতুন করে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন আইএসআইএল বিরোধী জোটে জাপানের অন্তর্ভূক্তি নতুন আন্তর্জাতিক যুদ্ধের তীব্র সম্ভবণা দেখা দিয়েছে।  

আমি মনে করি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি একটি বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে এগুচ্ছে; কেননা বিশ্বে এক চরম বৈষম্য ও দূরাবস্থা বিরাজ করছে এবং নেতৃত্বের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এ কারণে এমন অবস্থার অবসান এবং পূর্বের অবস্থায় বিশ্বকে ফিরিয়ে আনার জন্য এক আমূল পরিবর্তন দরকার। যা হয়তো নতুন বিশ্ব যুদ্ধের মাধ্যমে সম্ভব হতে পারে।

এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক  তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল দু'জাপানি নাগরিককে অপহরণ এবং অত:পর তাদেরকে পর্যায়ক্রমে নৃশংসভাবে হত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন: তাকফিরিদের এ ধরনের পদক্ষেপের নেপথ্যে মার্কিন আতাত থাকতে পারে। কেননা জাপান ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে মার্কিন জোটে শামিল করার এটা একটি নব কৌশল হতে পারে। অবশ্য এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না মার্কিন জোটে জাপানের অন্তর্ভূক্তি চুড়ান্ত কোন যুদ্ধের সূচনা করবে।

তিনি বলেন: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর যে তান্ডব চলছে, তা শুধুমাত্র এ অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এ বিষয়টি ইতিমধ্যে পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এমনকি ইউরোপের দেশগুলোতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি বলেন: অবশ্য মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মার্কিন উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের অস্ত্র বাজারকে সম্প্রসারিত করা।

এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল'র স্বরুপ উন্মোচন করতে যেয়ে বলেন: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওহাবি ও তাকফিরি জনগণের মাঝে আইএসআইএল'র প্রভাব আছে বলেই তাদের পক্ষে এ অঞ্চলের একটি বিশাল এলাকা জুড়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ইসলামের নামে উগ্রনীতি ও চরমপন্থি মনোভাবের বিস্তার সাধন এ সশস্ত্র গোষ্ঠির উত্থানের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন: ইসলামের কোথায় নৃশংসতা ও উগ্রতার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে? ইসলাম ধর্মে কি আদৌ কোন ব্যক্তিকে এমন অনুমোতি দেয়া হয়েছে যে, সে নিজেই মনগড়া বিধান জারি করবে এবং নিজের ইচ্ছানুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে? কাজেই হযরত মুহাম্মাদের (সা.) মহিমান্বিত আদর্শ ও তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল'র উগ্রনীতির মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যবধান ও পার্থক্য সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন। আজ আইএসআইএল যে সব নৃশংসতার ঘটনা ঘটাচ্ছে ও মানবতা বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে, তা ইসলাম ও পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট হারাম হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কাজেই প্রকাশ্য হারাম কাজে লিপ্ত গোষ্ঠি কিভাবে ইসলামি বিধান বাস্তবায়ন করতে পারে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ উম্মিদ গুলজারিকে পরিশেষে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোকে সময়ের আবর্তে বিভিন্ন প্রজন্মে ভাগ করা সম্ভব কিনা, যেমন: প্রথম প্রজন্ম আল কায়েদা, দ্বিতীয় প্রজন্ম তালেবান এবং তৃতীয় প্রজন্ম আইএসআইএল?

জবাবে তিনি বলেন: হ্যা, এটা সম্ভব। সামনে এ গোষ্ঠির চতুর্থ প্রজন্মের উত্থান ঘটতে পারে, যারা পূর্বের প্রজন্মগুলোর চেয়ে আরও ভয়ানক ও হিংস্র হতে পারে; যাদের বিস্তৃতি পূর্ব এশিয়াতেও থাকবে এবং তাদের সংখ্যাও হবে অনেক বেশি।  

  

  

  

 

মন্তব্য

বইপরিচিতি  :
 ভিডিও সংবাদ:
অন্যান্যলিংক :
আমাদের সম্পর্কে

মন্তব্য