خبرگزاری شبستان

شنبه ۱ اردیبهشت ۱۳۹۷

السبت ٦ شعبان ١٤٣٩

Saturday, April 21, 2018

বিজ্ঞাপন হার

কেন ইমাম হুসাইনকে হেদায়েতের আলো এবং মুক্তির তরী বলা হয়?

মাহদাভিয়াত বিভাগ: চতুর্থ হিজরির তৃতীয় শা’বান মানবজাতি ও বিশেষ করে, ইসলামের ইতিহাসের এক অনন্য ও অফুরন্ত খুশির দিন। কারণ, এই দিনে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র প্রাণপ্রিয় দ্বিতীয় নাতি তথা বেহেশতী নারীদের নেত্রী হযরত ফাতিমা (সা.) ও বিশ্বাসীদের নেতা তথা আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)’র সুযোগ্য দ্বিতীয় পুত্র এবং ইসলামের চরম দূর্দিনের ত্রাণকর্তা ও শহীদদের নেতা হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)।

নির্বাচিত সংবাদ

মতামতজরিপ  :   Saturday, February 10, 2018 নির্বাচিত সংবাদ : 28391

ঢাকায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী পালিত
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকাস্থ ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জাতীয় জাদুঘর-এর যৌথ উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা, জাতীয় অগ্রগতি ও সক্ষমতা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ডকুমেন্টারি ফিল্ম ও সাতদিনব্যাপী ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

ঢাকায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী পালিত

 

 ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকাস্থ ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জাতীয় জাদুঘর-এর যৌথ উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা, জাতীয় অগ্রগতি ও সক্ষমতা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ডকুমেন্টারি ফিল্ম ও সাতদিনব্যাপী ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনভি।

ইরানি ক্বারী মুহাম্মদ জাওয়াদ হোসাইনির সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খান, স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকাস্থ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর সাইয়্যেদ মূসা হোসাইনী। আলোচনায় অংশ নেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইনামুল হক, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইউসুফ মাহমুদুল ইসলাম।

ইরান বহুদূর এগিয়ে গেছে: ড. আবদুর রাজ্জাক

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইরান ও বাংলাদেশে বন্ধুত্ব থেকে উভয় দেশই উপকৃত হবে। ইরানি জাতির ত্যাগ ও সংগ্রাম, ইরানি আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের দুরদর্শিতা, দেশপ্রেম ও তাদের প্রতি ইরানি জনগণের আস্থার ফলেই আন্তর্জাতিক বিশ্বের অসহযোগিতা সত্ত্বেও ইরান বহুদূর এগিয়ে গেছে। ইরানের রয়েছে আধ্যাত্মিক শক্তি, প্রকৃত ইসলামের সৌন্দর্য ও শিক্ষা, গোঁড়ামিমুক্ত ধর্মবিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ, সমৃদ্ধ ইতিহাস, উন্নত সংস্কৃতি, শিল্প-বিজ্ঞানে সাফল্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ। ইরানের ইসলামি বিপ্লব সবকিছুকেই ধারণ করেছে। সেখানে রয়েছে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার ও সাম্য, ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ও পরধর্ম সহিষ্ণুতা।

তিনি আরও বলেন, ইরান সম্পর্কে জেনে আমি আপ্লুত হয়েছি। অথচ আগে একটি ভুল ধারণা ছিল যে, ‘ইরান মোল্লাতন্ত্র অন্ধ ধর্মানুসারি কোনো দেশ’। আসলে ইরানে যা আছে সেটিই আসল ইসলাম। কারণ ইসলাম অন্ধ ধর্মানুসারীদের কোনো ধর্ম নয়। ইসলামে রয়েছে আত্মশুদ্ধি বা আত্মার মুক্তিবিধান এবং সেইসঙ্গে বুদ্ধির মুক্তিবিধান। উগ্র গোঁড়া বা সঙ্কীর্ণ চিন্তার ধর্ম সেটি নয়। তাই ইরানে যে সমাজ কায়েম হয়েছে তাকে আমরা বলতে পারি ‘ধর্ম বিশ্বাস ও নৈতিকতাযুক্ত আধুনিক বা প্রগতিশীল সমাজ’। ইরানের আলেম বা জ্ঞানী নেতৃত্ব, ইরানকে শত বাধার পরও যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবক’টি বিভাগেই সফলতা অর্জিত হচ্ছে।

ইরানি চলচ্চিত্রশিল্পের প্রশংসা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ইরানি সিনেমা জীবনবোধে উদ্দীপ্ত। ইরানি চলচ্চিত্র অস্কারসহ সবক’টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার তাদের ঘরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ইরানি সিনেমা প্রমাণ করেছে মারদাঙ্গা, উত্তেজনা ও যৌনতাকে বিষয়বস্তু না করেও বিশ্বসেরা সিনেমা তৈরি করা যায় এবং তা পুরস্কারও পায়।

অবরোধ আমাদের কোনো ক্ষতি করে নি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনভি বলেন, বিপ্লবের আগে আমরা ইরানি জনগণ অনেক বিষয়ে পিছিয়ে ছিলাম। সাম্রাজ্যবাদিরা আমাদের সম্পদ শোষণ করত তাদের পদলেহী শাসকদের মাধ্যমে। আমাদের তরুণ সমাজ যারা দেশ ও জনগণের সম্পদ ও ভবিষ্যৎ সেই তরুণ সমাজের নৈতিকতাকে ভেঙে দেয়ার জন্যে তাদেরকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে চেয়েছিল। মাদকাসক্তি ছড়িয়ে দিয়ে যুবসমাজের স্বাস্থ্য ও চরিত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। আজ আমরা স্বাধীন হয়েছি। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এটা সাম্রাজ্যবাদিরাসহ অনেকের সহ্য হচ্ছে না।

তিনি বলেন, অবরোধ আমাদের কোনো ক্ষতি করে নি বরং আমাদেরকে আত্মপ্রত্যয়ী করেছে। দৃঢ় মনোবল তৈরি করেছে। পরিশ্রমী ও জীবনসংগ্রামী করেছে।

অভিনেতা ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইনামুল হক ইরানি চলচ্চিত্রের শিল্প নিপুণতা, অভিনয়ের সুক্ষ্ম কৃতকর্মসহ ইরানি সিনেমার ইতিহাস তুলে ধরেন ও বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক পুরস্কারলাভের তালিকা পেশ করেন।

প্রবন্ধকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খান তার প্রবন্ধে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বার্ষিকীতে বিভিন্ন দিক ও বিভাগে উন্নয়নের ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরেন।

বিশ্লেষণও নোট :
|
|
|

মন্তব্য

বইপরিচিতি  :
 ভিডিও সংবাদ:
অন্যান্যলিংক :
আমাদের সম্পর্কে

মন্তব্য