خبرگزاری شبستان

پنج شنبه ۳۱ خرداد ۱۳۹۷

الخميس ٨ شوّال ١٤٣٩

Thursday, June 21, 2018

বিজ্ঞাপন হার

মদীনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকী কবরস্থান

স্পেশাল ডেস্ক: মদীনার জান্নাতুল বাকী মুসলিম জাহানের সবচেয়ে পবিত্রতম কবরস্থান। যেখানে শায়িত আছেন ইসলামের নক্ষত্রতূল্য ব্যক্তিত্বগণ। ঐতিহাসিক মদীনায় মসজিদুন্নবী ও রাসূলের (সা.) রওজা মোবারকের পার্শ্বে অবস্থিত এ কবরস্থানটি।

নির্বাচিত সংবাদ

মতামতজরিপ  :   Saturday, March 03, 2018 নির্বাচিত সংবাদ : 28526

মহীয়সী নারী হযরত উম্মুল বানিন
মায়ারেফ বিভাগ: হিজরি ৬৪ সনের ১৩ই জামাদিউস সানী মহীয়সী রমণী হযরত উম্মুল বানিনের ওফাত দিবস। তিনি তাকওয়া ও নৈতিকতার দিক থেকে ছিলেন সবার শীর্ষে। তিনি তার সন্তানদেরকে অতি ধার্মিক ও অধ্যাত্মিকভাবে গড়ে তুলে ছিলেন। আর বেলায়াতের আনুগত্যের জন্য তাদেরকে নিবেদিত প্রাণ হিসাবে গড়ে তুলে ছিলেন।

মহীয়সী নারী হযরত উম্মুল বানিন

 

মায়ারেফ বিভাগ: হিজরি ৬৪ সনের ১৩ই জামাদিউস সানী মহীয়সী রমণী হযরত উম্মুল বানিনের ওফাত দিবস। তিনি তাকওয়া ও নৈতিকতার দিক থেকে ছিলেন সবার শীর্ষে। তিনি তার সন্তানদেরকে অতি ধার্মিক ও অধ্যাত্মিকভাবে গড়ে তুলে ছিলেন। আর বেলায়াতের আনুগত্যের জন্য তাদেরকে নিবেদিত প্রাণ হিসাবে গড়ে তুলে ছিলেন।

শাবিস্তান বার্তা সংস্থার রিপোর্ট: নবী কন্যা হযরত ফাতিমা যাহরার শাহাদাতের পর, হযরত আলী(আ.)গভীর শোকে দিন কাটাতে থাকেন। কিছু দিন পর তার ভাই আকিলকে বলেন: আমার জন্য সাহসী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের একটি মেয়ে দেখুন। যার গর্ভে আমার একটি বীর সন্তান জন্ম গ্রহণ করবে যে কারবালায় আমার হুসাইনকে সাহায্য করতে পারবে। হযরত আকিল যেহেতু আরবদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন, তিনি উম্মুল বানিন কালাবিয়াকে হযরত আলীর জন্য পছন্দ করলেন। কেননা তাদের গোত্র বীরত্ব ও সাহসিকতার দিক থেকে অন্যতম ছিলেন।
বীরত্ব ও সাহসিকতার দিক থেকে বানী কালব গোত্র আরবদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ও সুনামধন্য ছিল। তাদের সম্পর্কে বলা হয় যে, তারা বলতেন; আমরা আমের বিন সায়সাআর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম বংশধর এবং সকলেই তা একবাক্যে মেনে নিতেন।
হযরত আলী(আ.) হযরত আকীলের প্রস্তাবকে গ্রহণ করলেন এবং তাকে হযরত উম্মুল বানিনের বাবার কাছে পাঠালেন। প্রস্তাব পেয়ে উম্মুল বানিনের বাবা খুশি হয়ে তার মেয়েকে জানালেন এবং মেয়েও গর্বের সাথে তা মেনে নিলেন। এভাবে হযরত আলী(আ.)-এর সাথে হযরত উম্মুল বানিনের শুভ পরিণয় ঘটল।
হযরত আলী(আ.) উম্মুল বানিনের, চরিত্র, আদব, ঈমান, আখলাক, বিবেক ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতেন এবং তার যথাযথ সম্মান দিতেন।

উম্মুল বানিন সর্বদা রাসূল(সা.)-এর দুই সন্তান ও বেহেশতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনকে সেবা-যত্ন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এবং সর্বদা মা ফাতিমার শূন্যস্থানকে পূরণ করার চেষ্টা করতেন।
মা ফাতিমা যাহরা(সালামুল্লাহ আলাইহা)মাত্র বিশ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন এবং তার পবিত্র শিশুরা মায়ের সেবা-যত্ন থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু হযরত উম্মুল বানিন সর্বদা তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন এবং তাদের মনকষ্ট কমানোর চেষ্টা করতেন। আর ইমাম হাসান ও হুসাইন(আ.) অনেকটাই তার কাছে মায়ের আদর-যত্ন পেতেন। হযরত উম্মুল বানিন নিজের সন্তানদের থেকে মা ফাতিমার সন্তানদের প্রতি বেশী খেয়াল রাখতেন এবং বেশীর ভাগ ভালবাসা ও স্নেহ-মমতাকে তাদের জন্য উৎসর্গ করতেন। পৃথিবীর ইতিহাসে হযরত উম্মুল বানিন ছাড়া আর কোন নারী দেখা যায় নি যারা নিজের সন্তানের উপর সতিনের সন্তানদেরকে প্রাধান্য দেয়।
হযরত উম্মুল বানিন রাসূল(সা.)-এর কন্যার সন্তানদের প্রতি ভালবাসাকে ওয়াজিব মনে করতেন। কেননা পবিত্র কোরআনে রাসূল(সা.)-এর আহলে বাইতকে ভালবাসতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইমাম হাসান ও হুসাইন(আ.) ছিলেন, মা ফাতিমার কলিজার টুকরা নয়নের মণি, হযরত উম্মুল বানিনও সে বিষয়টি ভাল ভাবেই জানতেন এবং যথাসাধ্য তাদের সেবা-যত্ন করার চেষ্টা করতেন।
প্রথমে মা ফাতিমার ঘরে এসে উম্মুল বানিন অসুস্থ ইমাম হাসান ও হুসাইনের সেবা-যত্ন করেন। তিনি হযরত আলী(আ.)-কে বলেন: আমাকে আমার আসল নাম ফাতিমা নামে ডাকবেন না বরং উম্মুল বানিন নামে ডাকবেন। কেননা ইমাম হাসান ও হুসাইন(আ.)যখন মা ফাতিমার নাম শুনবেন তখন তাদের মায়ে স্মৃতি মনে পড়বে এবং কষ্ট পাবে।

হযরত উম্মুল বানিন আহলে বাইতের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন,তা বৃথা যায় নি। কেননা আহলে বাইতও তাকে অতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। শিয়া মাজহাবের অন্যতম ফকীহ শহীদ বলেন: হযরত উম্মুল বানিন সালামুল্লাহ আলাইহা আহলে বাইতের একনিষ্ঠ অুনসারী ছিলেন এবং তিনি আহলে বাইতের জন্য তার সব কিছু উৎসর্গ করেছেন। হযরত যাইনাব সালামুল্লাহ আলাইহা কারবালা থেকে মদিনায় ফিরে প্রথমে উম্মুল বানিনকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাকে সান্ত্বনা দেন। আহলে বাইতের সদস্যরা ইদের সময় সবার আগে তাকে মোবারক বাদ জানাতেন এবং কষ্টের সময়ও তাকে সবার আগে সান্ত্বনা দিতেন।
হযরত উম্মুল বানিনের বংশ পরিচয়
তিনি হচ্ছেন হাজাম বিন কালাব বিন রাবিয়ী, ইবনে ওয়াহিদ, ইবনে কাব, ইবনে আমের বিন কালাব বিন রাবিয়া, বিন আমের বিন সায়সায়া, বিন মোয়াবিয়া বিন বাকর বিন হাওয়াযেন এবং ফাতিমা বিনতে জাফর বিন কালাব এর কন্যা। এভাবে তার ছয়টি বংশধারা বর্ণিত হয়েছে।
হযরত উম্মুল বানিনের সন্তানগণ
তার প্রথম সন্তান হচ্ছেন হযরত আবুল ফাজলে আব্বাস। অত:পর আব্দুল্লাহ, জাফর এবং ওসমান পর্যায়ক্রমে জন্মগ্রহণ করেন। হযরত উম্মুল বানিনের চার সন্তানই কারবালার ময়দানে শাহাদাত বরণ করেন এবং হযরত আব্বাস (আ.)-এর সন্তানদের মাধ্যমে তার বংশের বিস্তার ঘটে।

মন্তব্য

বইপরিচিতি  :
 ভিডিও সংবাদ:
অন্যান্যলিংক :
আমাদের সম্পর্কে

মন্তব্য