خبرگزاری شبستان

سه شنبه ۲۲ آیان ۱۳۹۷

الثلاثاء ٥ ربيع الأوّل ١٤٤٠

Tuesday, November 13, 2018

বিজ্ঞাপন হার

ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা শহরের ইরানি কনস্যুলেটে দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদ জানাতে আজ (শনিবার) ভোরে তেহরানে নিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। এ সময় ইরানি কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে ইরাকি নিরাপত্তা কর্মীদের অবহেলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

নির্বাচিত সংবাদ

মতামতজরিপ  :   Saturday, July 21, 2018 নির্বাচিত সংবাদ : 29195

ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনকে 'ইহুদি জাতির রাষ্ট্র' ঘোষণার রহস্য ও তাৎপর্য
দখলদার ইসরাইলের সংসদ 'নেসেট' গতকাল (১৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার) গোটা অধিকৃত ফিলিস্তিনকে ইহুদি জাতির রাষ্ট্র বলে ঘোষণা দিয়ে এ ঘোষণাকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেছে।

ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনকে 'ইহুদি জাতির রাষ্ট্র' ঘোষণার রহস্য ও তাৎপর্য

দখলদার ইসরাইলের সংসদ 'নেসেট' গতকাল (১৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার) গোটা অধিকৃত ফিলিস্তিনকে ইহুদি জাতির রাষ্ট্র বলে ঘোষণা দিয়ে এ ঘোষণাকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেছে।

চরম বর্ণবাদী বা ইহুদিবাদী এ আইন অনুযায়ী গোটা ফিলিস্তিন কেবল ইহুদিবাদীদের দেশ হওয়ায় সেখানে ফিলিস্তিনিদের কোনো নাগরিক ও মানবিক-অধিকার থাকবে না। এ ছাড়াও হিব্রু ভাষাই হবে একমাত্র রাষ্ট্র-ভাষা।

ইসরাইলি এ আইনে মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদীদের জন্য নতুন নতুন  অবৈধ বসতি গড়ে তোলাকে জাতীয় মূল্যবোধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ আইনে পুরনো অবৈধ ইসরাইলি-বসতিগুলোর বিস্তার ও উন্নয়নের পাশাপাশি কথিত নতুন 'ইহুদি-বসতি' গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসরাইলের এই নতুন বর্ণবাদী তাণ্ডব ও উপনিবেশবাদী দাম্ভিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরাইলের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী বলে সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে।  এমনকি হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিকও এই বিল পাসের প্রতিবাদে তেল-আবিবে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে। আমেরিকার কয়েকটি ইহুদি সংস্থাও ইসরাইলের কথিত এ আইনকে বর্ণবাদী বলে অভিহিত করে ইসরাইলি সংসদে এ আইন অনুমোদন না করার দাবি জানিয়েছিল। 

বর্ণবাদী ইসরাইলি নেতারা যে প্রতিবাদ ও নিন্দার তোয়াক্কা না করে আন্তর্জাতিক আইন পদদলনের ক্ষেত্রে দিনকে দিন অনেক বেশি উদ্ধত ও আগ্রাসী হয়ে পড়ছে কথিত এ আইন অনুমোদন থেকে তা আবারও সুস্পষ্ট হল। মার্কিন ট্রাম্প সরকারের জোরদার সহায়তা ও সবুজ সংকেত পেয়েই ইসরাইল সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প সরকার বিশ্ব-জনমতের নিন্দা ও বিশ্ব-সমাজের প্রতিবাদকে উপেক্ষা করে সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসকে তেলআবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে স্থানান্তর করায় ইসরাইলি নেতারা নতুন উদ্যমে অপরাধযজ্ঞ ও আগ্রাসন জোরদারে উৎসাহী হয়ে উঠেছে। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন,  ইসরাইল কথিত এ আইনের অজুহাত দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নির্মূল অভিযান জোরদার ও তাদেরকে স্বদেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া, ইহুদিবাদীদের জন্য অবৈধ উপশহর নির্মাণ অব্যাহত রাখা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফেরত আসার পথ বন্ধ করার পদক্ষেপগুলো তীব্রতর করবে। 

ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও'র মহাসচিব সায়েব ইরিকাত বর্ণবাদী ইসরাইলের এ নতুন আইনকে 'জাতিগত শুদ্ধি-অভিযান-ভিত্তিক উপনিবেশবাদের ধারা অব্যাহত রাখা' বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই ভূখণ্ডের তথা ফিলিস্তিনের প্রকৃত অধিবাসীদের অধিকারকে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হল।

ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দল হামাসের মুখপাত্র ফৌজি বারহুম ইসরাইলের এ নতুন হঠকারিতার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর নীরবতা ও মার্কিন সরকারের লাগামহীন সহায়তাকে দায়ী করেছেন। ইসরাইলি সংসদের আরব সদস্য আহমাদ তাইয়্যেবিও মানবাধিকার বিরোধী ও চরম বর্ণবাদী ইসরাইলি এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইসরাইলি সংসদে এ আইন পাস হওয়ার ঘটনা ফিলিস্তিনে গণতন্ত্রের মৃত্যুর সমতুল্য।  #

মন্তব্য

বইপরিচিতি  :
 ভিডিও সংবাদ:
অন্যান্যলিংক :
আমাদের সম্পর্কে

মন্তব্য